অন্ধের ছদ্মবেশে অপহরণ: বটিয়াঘাটার হোগলবুনিয়া হাটবাটী স্কুলের ছাত্র অর্ঘ্যর রুদ্ধশ্বাস মুক্তির গল্প।
নিত্যানন্দ মহালদার ব্যুরো চীফঃ
খুলনার বটিয়াঘাটার হোগলবুনিয়া হাটবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর সহকারী শিক্ষক বাবু অংশুপতি মল্লিকের পুত্র এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অর্ঘ্য মল্লিক নিজের বুদ্ধিমত্তায় বেঁচে ফিরল এক ভয়ংকর অপহরণের হাত থেকে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
ফাঁদ ও অপহরণ: বটিয়াঘাটার ছিলিন্দামারি এলাকায় এক ব্যক্তি ‘অন্ধ’ সেজে অর্ঘ্যর কাছে রাস্তা পার করে দেওয়ার সাহায্য চায়। অর্ঘ্য এগিয়ে গেলে, পাশে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে আরও দুজন এসে তার মুখে চেতনানাশক স্প্রে করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে।
বন্দিদশা ও মুক্তিপণ: অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে অর্ঘ্যকে বস্তাবন্দি করে একটি ড্রামের ভেতর আটকে রাখা হয় এবং তার পরিবারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার পরিকল্পনা করা হয়।
সাহসী নিষ্কৃতি: অর্ঘ্য একজন কাব স্কাউট। অপহরণকারীরা নেশা করতে বাইরে গেলে, সে নিজের স্কাউটিংয়ের শিক্ষা ও বিচক্ষণতাকে কাজে লাগিয়ে ড্রাম থেকে বের হয়ে পালিয়ে মূল সড়কে চলে আসে।
নিরাপদে প্রত্যাবর্তন: সড়কে এসে অর্ঘ্য স্থানীয়দের সব খুলে বললে, সহৃদয় ব্যক্তিরা তাকে খুলনার বানরগাতিতে তার পিসির বাসায় নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেন।
অপরাধীদের শাস্তি ও আমাদের দাবি:
নিষ্পাপ শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই চক্রের সকল সদস্যকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।
সচেতনতামূলক বার্তা (অভিভাবক ও শিশুদের জন্য):
১. অপরিচিতদের থেকে দূরত্ব: অপরিচিত কেউ যেকোনো ধরণের সাহায্য চাইলে (যেমন: পথ চেনা, মোবাইল ফোন ব্যবহার বা রাস্তা পার হওয়া) শিশুরা যেন একাকী না গিয়ে বড়দের সাহায্য নেয়।
২. জরুরি তথ্য মুখস্থ রাখা: অর্ঘ্যর মতো প্রতিটি শিশুকে তার মা-বাবা বা নিকটাত্মীয়ের ফোন নম্বর এবং বাসার সঠিক ঠিকানা মুখস্থ রাখা শেখানো উচিত, যা বিপদের সময় জীবন বাঁচাতে পারে।এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।