1. admin@kbtvnews24.com : admin :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-২ মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার। নড়াইলের নড়াগাতীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ পালানো সেই আসামি গ্রেফতার গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলা, গ্রেপ্তারের দাবি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট দিরাই উপজেলা ও পৌর শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন বিপিএল সিজন ৫ এর ২য় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মোঃ আরাফাত হোসেন জনি’র জন্মদিন উপলক্ষে কেককাটা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে নগরীর নবপল্লী কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বটিয়াঘাটায় যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সির বাড়িতে গুলিবর্ষণ মামলায় সাদ্দাম হাওলাদার গ্রেফতার বটিয়াঘাটায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ধান রোপণে বাধা, নারীকে লাঠিপেটা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন নদী’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে  দু’শতাধীক পরিবার

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪৪ বার পঠিত

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন
নদী’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে  দু’শতাধীক পরিবার
রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বাস্তুহারা হয়ে পরেছে অনেক পরিবার।  বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দু’টি মসজিদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ (ক্রসবাঁধ) হুমকির মুখে পরেছে সংযুক্ত কর্পুরা চাপড়ারপাড়-কানিপাড়া,রেডক্রোস, বকসাপাড়া, বসুনিয়াপাড়ার প্রায় দু’শতাধীক বাড়ী-ঘর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তিস্তার আগ্রাসনে বাস্তুহারা হয়েছে ওই এলাকার অন্তত ২ শতাধীক মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েক শত পরিবার। এছাড়া, দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা মৌজার চাপড়ারপাড় এলাকার কানিপাড়া ও রেডক্রোস পরিবারের শতাধীক বাড়ী-ঘর নদীর তীব্র ভাঙনে সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পরেছে কয়েকটি স্থাপনা, ফসলি জমি।  নদীগর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় সেচকাজে ব্যবহৃত বিএডিসি নিয়ন্ত্রিত চাপরারপাড় সোলার প্যানেল, কর্পূরা  সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসুনিয়া  পাড়া জামে মসজিদ, কানিপাড়া জামে মসজিদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বর্ষা মৌসুমের আগে কর্পূরা মুন্সিবাড়ী ও বসুনিয়াপাড়া রক্ষায় কিছু জি,ও ব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা খরস্রোতে নদীর গর্ভে চলে গেছে। এবারের  তীব্র ভাঙন চললেও এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ পৌঁছেনি সেখানে। গত সোমবার ভাঙ্গন কবলিত  চাপরারপাড়া  গ্রামে তিস্তার তীরে ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। গত ৭২ ঘন্টার  ব্যবধানে ভয়াবহ ভাঙ্গনের  তান্ডবে প্রায়  শতাধীক পরিবারের বসতভিটা,  গাছপালা, আবাদি জমি, কবরস্থান গিলে খেলেছে সর্বগ্রাসা তিস্তা নদী। আরো অনেকে  নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের  বাড়ি-ঘর।
তিস্তার ভাঙনে ছয়বার ভিটে সরিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা সোলেমান বসুনিয়া। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তিনি ভিটে সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন। সাজু মিয়া ও মজনু মিয়া বলেন, ‘ছয়বার বাড়ি সরাই, বুকের ভিতরাটা ভাঙিয়া যায়। এতোবার ভিটা ভাঙে, তাও কাইয়ো শোনে না-দেখে না,বা। আমরা খুব অসহায়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে একই কথা বললেন, ঐ এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী সহিদুল ইসলাম। তিস্তার ভাঙনে সর্বহারা হয়ে এখন রাস্তার ভিখারী হতে হয়েছে অনেককে। বাড়ি-ঘর সরাতে সরাতে হাফসে গেছে হামিদুল ইসলাম,জয়নাল, দেলবর হোসেন, আবু সাঈদ, উমাল উদ্দিন, সহিদার রহমান, অবির উদ্দিন, কমর উদ্দিন,মকবুল হোসেন, সইফুদ্দিসহ ভুক্তভোগীরা।  জানাগেছে, তিস্তা নদীর ভাঙনে দলদলিয়া ইউনিয়নের ২-৩ নম্বর ওয়ার্ড (কর্পূরা) পুরোটাই এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ অংশ ইউনিয়নের মানোচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। ছয় মাসে অন্তত সহস্রাধিক  পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। আবাদি জমি বিলীন হয়েছে অন্তত ৬’শ একর।
ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র  কামরুজ্জামান রানা সুন্সি বলেন, ‘গত ছয় মাসে তিস্তার ভাঙনে অন্তত ৪’শ পরিবার  বাস্তুহারা হয়েছে। বর্তমানে নদীর তীব্র ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। ভাঙন  ঠেকাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এ মৌজাটি ইউনিয়নের মানোচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। বর্তমানে চাপরারপাড় ও বসুনিয়া পাড়ায় যে ভাবে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, দ্রুত প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে দু-চার দিনের মধ্যে গ্রাম ২’টি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এলাকাবাসী জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ভাঙ্গনের তীব্রতা বারলে, সপ্তাহ খানেক আগে পাউবো’র উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে ভাঙ্গন ঠেকাতে যয়াযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করাহলেও এখনো কোন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে তারা হতাশ হয়ে পরেছে। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে তাকে পাওয়া যায়নি।##

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2024 Kbtvnews24
Theme Customized By Shakil IT Park