1. admin@kbtvnews24.com : admin :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-২ মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার। নড়াইলের নড়াগাতীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ পালানো সেই আসামি গ্রেফতার গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলা, গ্রেপ্তারের দাবি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট দিরাই উপজেলা ও পৌর শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন বিপিএল সিজন ৫ এর ২য় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মোঃ আরাফাত হোসেন জনি’র জন্মদিন উপলক্ষে কেককাটা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে নগরীর নবপল্লী কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বটিয়াঘাটায় যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সির বাড়িতে গুলিবর্ষণ মামলায় সাদ্দাম হাওলাদার গ্রেফতার বটিয়াঘাটায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ধান রোপণে বাধা, নারীকে লাঠিপেটা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আজ শুভ মহালয়া ; সনাতনি সবাইকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৬ বার পঠিত

আজ শুভ মহালয়া ; সনাতনি সবাইকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন
মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম।

‘দুর্গে দুর্গে দুর্গতিনাশিনী’, ‘শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে’, ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’, ‘জাগো দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী’—গানগুলো হয়তো অনেকের জানা। এ ছাড়া আছে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে, বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর’। এসব শ্রুতিমধুর গান বা মন্ত্রের কথা বলার কারণ কী, সেটা সবাই এতক্ষণে বুঝে গেছেন। কারণ, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে রাত পোহালেই দুর্গাপূজার সূচনালগ্ন শুভ মহালয়া।সনাতন ধর্ম মতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মা দুর্গা মর্ত্যলোকে এসেছেন। দেবী দুর্গার বোধন তথা সেই মহালয়া কাল ২১সেপ্টেম্বর-২৫,রবিবার।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কী এই মহালয়া? সনাতনী ধর্ম মতে, তা নিয়ে অবশ্য ‘নানা মুনির নানা মত’। পুরাণ ও শাস্ত্রের বেশ কিছু তথ্য এবং ব্যাসদেব রচিত মহাভারতে দিনটিকে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীশ্রী চণ্ডীতে ‘মহালয়’ হচ্ছে পুজো বা উৎসবের আলয়। এখানে আলয় শব্দটির অর্থ আশ্রয়। চণ্ডীতে তাই মহালয়া বলতে পিতৃলোককে স্মরণের ক্ষণকেই বলা হয়েছে।

সনাতনী ধর্ম মতে পুরাণে বলা আছে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব পান। ব্রহ্মার বরপ্রাপ্ত কোনো মানুষ বা দেবতার পক্ষে মহিষাসুরকে বধ করা সম্ভব ছিল না। ফলত অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর তার ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে ওঠে। একে একে দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়ন করে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব তখন বাধ্য হয়ে মিলিতভাবে মহামায়ার রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন। দেবতাদের দান করা ১০টি অস্ত্রে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা সুসজ্জিত হয়ে ওঠেন। শুম্ভ, নিশুম্ভ, মধু, কৈটভ, রক্তবীজ—একে একে অসুর বধ করলেন। হিন্দু ধর্ম মতে সবশেষ সেই মহিষাসুর বধ হয়েছে মা দুর্গার হাতেই। মহিষাসুর নিজে যেমন চেয়েছিল মা দুর্গার হাতে বধ হতে, তেমনি এটা তার জানাও ছিল। মহালয়া হচ্ছে সেই দিন, যেদিন দশভুজা দুর্গা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করতে মর্ত্যলোকে এসেছেন বলে বিশ্বাস।

এ ছাড়া একাধিক পুরাণ ও অন্যান্য হিন্দুধর্মগ্রন্থেও রামের অকালবোধনের কথা বলা হয়েছে। রাম-রাবণের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে যখন একে একে লঙ্কার বড় বড় বীর ধরাশায়ী, তখন সনাতন ধর্মের মা দুর্গার স্তব করলেন রাবণ। দুর্গা কালীরূপে রাবণকে অভয় দিলেন। মা কালীর কোলে আশ্রিত রাবণ যুদ্ধে অপরাজেয় হয়ে উঠতে লাগলেন। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাকে তুষ্ট করতে অকালেই (বসন্তকালের বদলে শরৎকালে) তাঁর পুজো করতে মনস্থ করলেন রাম। ত্রেতা যুগে রামচন্দ্র অকালে ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। রামচন্দ্র অকালে দেবী দুর্গার বোধন করে যে পূজা করেছিলেন, বর্তমানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ সেটাই অনুসরণ করছে। রামচন্দ্র শরৎকালে যে দুর্গাপূজা করেন, সেটাই অকালবোধন।

সনাতন ধর্মাবলম্বী মতে তারা এমনটিও বলা হয় যে পিতৃপক্ষ শেষে অন্ধকার অমাবস্যার সীমানা ডিঙিয়ে আমরা যখন আলোকময় দেবীপক্ষের আগমন প্রত্যক্ষ করি, তখনই সেই মহালগ্নটি তাদের জীবনে ‘মহালয়ার’ বার্তা নিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে স্বয়ং দেবীই হচ্ছেন সেই মহান আশ্রয়, তাই উত্তরণের লগ্নটির নাম মহালয়া। বিশেষ পূজা আর মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খের ধ্বনি ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে আহ্বান করা হয়। বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ভোরে উঠে শোনেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের সেই সুমধুর চণ্ডীপাঠ। অনেকে আবার টেলিভিশনে দেখেন মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান। আর মহালয়া মানে যে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু, সেটা তো অনেকের জানা। ঢাকে সেই কাঠি বাজার অপেক্ষা।

ছয় দিন পর শুরু মহাসপ্তমী। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। তারপর আবার সেই এক বছরের ক্ষণগণনা শুরু। ‘আসছে বছর আবার হবে’, ‘বলো দুর্গা মাই কি, জয়’—এই কথাগুলো প্রতিমা বিসর্জনের সময় বলতে থাকেন বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। দেবী দুর্গার আগমন ও গমন সাধারণত নির্ভর করে সপ্তমী ও দশমী তিথি কবে পড়েছে, তার ওপর।

মহালয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় প্রতিমা বানানোর কাজ। দুর্গাপূজার সময় যত এগিয়ে আসে, মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিতে। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে কাজের ধুম পড়ে যায়। যদিও ছোটবেলার সেই পুজোর সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। আরও স্পষ্ট করে বললে ইন্টারনেট আসার আগের যুগ। তখন রেডিও, ক্যাসেটে বাজত ‘আয় রে ছুটে আয়, পুজোর গন্ধ এসেছে’। গানটা শুনলেই পুজো পুজো ভাব চলে আসত। আমাদের বাড়ীর পাশেই হাবিলাসদ্বীপ গ্রামে আমরাও ছোট বেলায় দুর্গাপূজা অনেকটা ব্যস্ত হয়ে ছুটাছুটি করতাম পুজা মন্ডপে মন্ডপে। বর্তমানে শহুরে যান্ত্রিকতার প্রভাব এতই বেশি যে এখন আর শরতের কাশফুল দেখার আনন্দও তেমন একটা উদ্বেলিত করে না। তবু সব ছাপিয়ে ২০২৫ সালের শারদীয় দুর্গোৎসব সবার ভালো কাটুক। শুভ শারদীয় অগ্রীম শুভেচ্ছা।
এবারের মহালয়া ও দুর্গোৎসব সকলের জন্য হোক সুন্দর, আর এই সুন্দর যেন শত্রুর বুকেও জাগায় বিবেকের দীপ শিখা।কেননা বর্তমান সময়ে বিবেকহীন বন্ধু বান্ধবের চেয়ে বিবেকবান শত্রু বড় বেশি প্রয়োজন আমাদের।

লেখক: মিডিয়া কর্মী ও ক্রীড়া সংগঠক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2024 Kbtvnews24
Theme Customized By Shakil IT Park